খায়রুর করিম পাপন, স্টাফ রিপোর্টার
সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র, মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান প্রবীণ সাংবাদিক আবুল হাসনাত (কিসমত খন্দকার) আর নেই। বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর আফতাবনগরের নাগরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (*ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন*)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
তার ভাতিজা খন্দকার রিশাদ জানান, বুধবার বিকেলে আফতাবনগরে বোনের বাসায় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন বোন, ভাতিজা-ভাতিজি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহের কফিন রাজধানী থেকে মির্জাপুরে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক বিষাদময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকালে মির্জাপুর প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে লাশবাহী গাড়ি রাখা হলে প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে সর্বস্তরের মানুষ ও সহকর্মীরা ভিড় জমান।
এ সময় মির্জাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি ও প্রেস ক্লাব মির্জাপুর এর পক্ষ থেকে মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। সহকর্মী সাংবাদিকরা তাদের অভিভাবকতুল্য এই গুণী মানুষকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পরবর্তীতে বাদ যোহর মির্জাপুর কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সাংবাদিকতায় চার দশকেরও বেশি সময় পার করা কিসমত খন্দকার তার দীর্ঘ কর্মজীবনে দৈনিক সমকাল, দৈনিক খবর, দৈনিক মানবজমিন, অনলাইন পোর্টাল বাংলানিউজ২৪ এবং রাইজিংবিডি-তে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক অর্থ সম্পাদক ছিলেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছিল তার অনন্য অবদান। তিনি মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের প্রাক্তন প্রভাষক এবং স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কিংশুক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
প্রবীণ এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তার প্রয়াণে মির্জাপুরের সাংবাদিকতা ও সুশীল সমাজ একজন প্রকৃত অভিভাবককে হারালো। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।