মো. জোবায়ের হোসেন
করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার কুমুদিনী হাসপাতাল। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি ইতিমধ্যে একটি করোনা ইউনিট চালু করেছে এবং রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বহন করে থাকে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা রোগীদের জন্য ৪০টি সাধারণ বেড ও ৮টি আইসিইউ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মাধ্যমে করোনা পরিক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে। করোনা পরিক্ষা করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাতায়াত ও পরিক্ষা ফি বাবদ জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নিয়ে থাকে। ফলে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে করোনা পরিক্ষা করতে পেরে খুশী সাধারণ মানুষ।
হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১২-১৩ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের দেখভালের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে ১ জন ডাক্তার ও ৪ জন নার্স নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া পুরো হাসপাতালটিতে ২০০ এর অধিক ডাক্তার ও প্রায় ৭ শতাধিক নার্স চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
করোনা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. শুভ বশাক বলেন, বর্তমানে করোনা ইউনিটে ৪ জন নারী করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২ জন। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসাদের জন্য আলাদাভাবে একটি আইসোলেশন সেন্টারও রয়েছে। যেখানে বর্তমানে নারী-পুরুষ মিলে ১১ জন রোগী সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
কুমুদিনী হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক রোগীর ছেলে বলেন, আমার মাকে কুমুদিনীতে ভর্তি করানোর পর তারা আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ সাপোর্ট দিয়েছেন। তাদের সেবায় বর্তমানে আমার মা অনেকটাই ভাল আছেন। এছাড়া হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করায় আমরা দারুনভাবে উপকৃত হচ্ছি। তবে দিন দিন যেভাবে মির্জাপুরে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে তাতে করোনা ইউনিটে ডাক্তার-নার্স বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ।
কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের হাসপাতাল থেকে শতাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আমরা সবাই সর্বাত্মকভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় বলেন, দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরপরই আমরা করোনা ইউনিট চালু করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই আমরা করোনা ইউনিটে নতুন করে আরও ৪৮টি বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, আমি ও সিভিল সার্জন মহোদয় করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছিলাম। তারা আমাদের আহ্ববানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছে। তাদের চিকিৎসার মান অত্যন্ত সন্তোষজনক। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কুমুদিনীর এমন উদ্যোগ মির্জাপুর তথা দেশবাসী মনে রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, কুমুদিনীতে আলাদাভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার জন্য মির্জাপুরবাসী অনেক উপকৃত হয়েছে এবং এই সংকটময় মুহূর্তে এটি আমাদের জন্য বড় পাওয়া। বড় ধরনের কোন সমস্যা না হলে রোগীরা এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
Leave a Reply