খায়রুল করিম পাপন, মির্জাপুর প্রতিদিন
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রিকশার অপেক্ষায়, হয়তো চোখে ছিল কলেজে যাওয়ার তাড়া কিংবা সুন্দর কোনো স্বপ্ন। কিন্তু একটি বেপরোয়া গতির সিএনজিচালিত অটোরিকশা মুহূর্তেই ওলটপালট করে দিল সব। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চিরতরে চোখ বুজলেন ১৮ বছরের তরতাজা তরুণ রায়হান খান।
আজ রোববার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে গতকাল শনিবার মির্জাপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন এই কলেজছাত্র।
নিহত রায়হান খান মির্জাপুর পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের পাহাড়পুর গ্রামের মাজাহারুল ইসলাম খানের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার মির্জাপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার পাশে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রায়হান। এ সময় একটি দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় রায়হান ছিটকে গিয়ে পাশের একটি দেয়ালে প্রচণ্ড আঘাত পান। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার নিবিড় পর্যেবক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় আজ সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রায়হানের এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকারের ছায়া। আদরের সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা এখন নির্বাক, তাদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পাহাড়পুর গ্রামের বাতাস। রায়হানের সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোকের মরণকামড়। কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না, প্রাণবন্ত এই ছেলেটি আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর ক্ষুব্ধ দাবি,রায়হানের এই অকাল প্রস্থানে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা গভীর দুঃখ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মির্জাপুরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচল করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ তাদের। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী চালকের কঠোর শাস্তি এবং সড়কগুলোতে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।