1. info@mirzapurpratidin.com : admin :
  2. news@mirzapurpratidin.com : mirzapur mirzapur : mirzapur mirzapur
নিভৃত মননে- মোজাম্মেল হক নিয়োগী - Mirzapurpratidin.com
শিরোনামঃ
মির্জাপুরে ধান ভিজে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হামলায় বড় ভাই নিহত ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপকের দায়িত্ব পেলেন টাঙ্গাইলের ডা. আজিজ মির্জাপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গণিত অলিম্পিয়াড মির্জাপুরে পৌরসভার সাবেক মেয়রকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন আদালতে আত্মসমর্পণের পর আ. লীগ নেতা কারাগারে ভাতগ্রাম ইউনিয়নে ফুটবল ফাইনালে বালকে কুইচতারা ও বালিকায় বাগজান চ্যাম্পিয়ন মির্জাপুরে বায়ো পেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা মির্জাপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি, এলাকা পরিদর্শন করলেন এমপি কালাম মির্জাপুরে গোড়াই ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টে বালিকায় সৈয়দপুর ও বালকে সোহাগপুর বিদ্যালয় জয়ী মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এমপি কালামকে সংবর্ধনা

নিভৃত মননে- মোজাম্মেল হক নিয়োগী

  • আপডেট টাইম : Wednesday, September 2, 2020
  • 909 বার
118646427 681814852689077 7579933276956880549 n

নিভৃত মননে

মোজাম্মেল হক নিয়োগী

সন্ধ্যার পর থেকে নিদারুণ অস্থিরতায় ভুগছি। কেন এমন লাগছে বুঝতে পারছি না। বারান্দায় বসে বসে মোবাইল সেটের বাটন টিপছিলাম আনমনা হয়ে। কারো সঙ্গে কথা বলতে পারলে ভাল হতো। কিন্তু কার সঙ্গে কথা বলব ভেবে পাচ্ছি না। হঠাৎ আমার মোবাইল সেটে রিং হলো। অজানা নাম্বার দেখে লাইন কেটে দিলাম। অচেনা কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে না। আবার রিং হলো। খুব অন্যমনস্কভাবেই এবার ধরলাম।

     – হ্যালো, কে বলছেন?

     – আমি… (একটু আমতা আমতা করছে) আবির। আপনি কি তামান্না?

     – হ্যাঁ, আমি তামান্না। কিন্তু আপনি কে? পপপপপপপপপপ

     – আমি আবির হাসান, আপনার দূর সম্পর্কের এক ফুফাতো ভাই। আপনাদের গ্রামের বাড়ি মুকুন্দপুর, ভোলা। আমি কি ঠিক বলেছি?

     – হ্যাঁ। ঠিকই তো বলেছেন কিন্তু আপনি…?

     – আপনার বাবার নাম আহমেদ সুলতান কাদেরী।

     – হ্যাঁ। আচ্ছা… আপনি দেখছি সবই চিনেন কিন্তু …

     – কিন্তু… আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না, এই তো?

     – সত্য কথা বললে, হ্যাঁ, আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। একটু বিস্তারিত বলুন। অনেকদিন হয়তো দেখা নেই, কথা নেই।

     – আমার বাবার নাম জায়েদ হাসান। আমার নাম আবির হাসান। আমি ছেলেবেলায় আপনাদের বাসায় অনেকবার গিয়েছি।

     আবির হাসান নামটি শোনার পর আমি কোনো কথা বলতে পারিনি। আবিরও না। মনে হলো সহস্র বছরের অনুসন্ধানের পর কাঙ্ক্ষিত ফসিল পেয়ে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। আবিরও কি তাই? এভাবে কিছুক্ষণ সময় কেটে গেল বিমূঢ় ঘোরের মধ্যে। 

  –  আমাকে চিনতে পারছেন না?

  – হ্যাঁ। পেরেছি। সেই যে কবে থেকে তোমাকে খুঁজছি আর তোমার দেখা পাইনি। এভাবে কোথায় কোন সাগরের ঝিনুকের পেটে লুকিয়েছিলে? আমি তুমি করে বলে ফেললাম কিছু মনে করো না আবির।

     – না, কিছু মনে করিনি। আমিও ভাবছিলাম তুমি যদি আমাকে আগের মতই বলতে তাহলে ভালো লাগত। খুব ভালো লাগত। সত্যি… খুব ভালো লাগছে তামান্না। খু..উ..ব। 

     – কী করছ? কোথায় আছ? কেমন আছ?

     – কীভাবে তোমাকে বলব বুঝতে পারছি না। ঢাকায় থাকি। জনবহুল দমবদ্ধ বসবাস অযোগ্য এক শহরে। তুমি?

     – কুষ্টিয়াতেই। ঢাকায় স্যাটেল করেছ?

     – হ্যাঁ।

     কী বলব কিছুই ভাবতে পারছি না। বুকের শব্দপাখিরা হঠাৎ কোথায় যেন উড়ে গেল। নিজেকে মনে হলো সহস্র বছরের ফসিল যার মধ্যে প্রাণের স্পন্দন নেই। এমন নির্জীবতা কেন তা বোঝার জন্য যখন নিজের মধ্যে ডুবে বুঁদ হয়ে পড়ে রইলাম তখন আবিরের কথা শুনে সম্বিত ফিরে পেলাম।

     – কথা বলছ না কেন?   

     – ও! হ্যাঁ। এতদিন কোথায় ছিলে? একটি বার খোঁজ খবর না নিয়ে পারলে?

     – কীভাবে যোগাযোগ রাখি বলো? বড়রা সুযোগ না দিলে ছোটরা পারে না। বেহায়াপনা হয়।

     – তত্ত্বকথা। তোমার কথা সব সময় ঠিক নয়। বড় ছোট কোনো কথা নয়, ছেলেদের যোগাযোগ রাখা যতটা সহজ মেয়েদের পক্ষে ততটা সহজ নয়। বলো সত্যি বলিনি?

     – হয়তো সত্যি, নয় তো না। তখন দু’জনের দু’টি ধারা ছিল। হয়ত অবিমৃষ্যকারী ধারা। তেল আর জলের ধারা। 

     – তুমি আগের মতই আছ। পুরনো ছাঁচেই কথা বলো।

     অনেকটা সময় আমরা দুজনের কেউ কোনো কথা বলতে পারিনি। আমার বুকের ভেতরটা বরফের মতো জমে গেছে। জানি না আবিরেরও সে রকম কিছু হয়েছে কি না। হাজারো কথার ভেতর কথা হারিয়ে ফেললাম। কোনটা বলব? এতদিন পর তার কথা শুনেই এলেমেলো। জীবনের একেক সময় হয়তো একেক কথা জরুরি হয়ে পড়ে।

     – কী করছ আবির?

     – একটা আর্ট ফার্ম দিয়েছি। ছবি আঁকি। আগামী মাসের ১০ তারিখ আমার একটা এক্সজিবিশন আছে। তুমি আসবে… এজন্যই তোমাকে ফোন করা।

     – আমার ফোন নাম্বার কোথায় পেলে?

     – রুহি খালার কাছ থেকে।

     – তুমি অনেক বড় হয়ে গেছো। আমি ছোট সময় ভাবতাম তুমি একদিন অনেক বড় হবে। তোমার বুদ্ধিদীপ্ত চোখেই আমি দেখতে পেতাম তুমি অনেক বড় মাপের মানুষ। হয়তো আমার স্বপ্নেই তুমি বড় হয়েছ।

     – এভাবে বলো না তামান্না। তবে তোমাদের মতো বড় হওয়ার এক স্বপ্নে তাড়িত হতাম আমি। সে অর্থে হয়তো তোমার স্বপ্নেই আমি এতটা পথ এসেছি।

     – মনে হচ্ছে তুমি ঝিনুকের গর্ভে লুকিয়ে গিয়ে মুক্তোই হয়েছ। খুবই ভালে লাগছে ভাবতে। কিন্তু এই ভালো লাগাটা কোনোভাবেই প্রকাশ করতে পারছি না আবির। জীবন কী আশ্চর্য, তাই না?

     – হ্যাঁ… তাই…। জানো তামান্না, তোমার কথা আমার প্রায়ই মনে হতো। বলা যায় প্রতিদিনই নিভৃতক্ষণে। কিন্তু আমি সাহস পেতাম না তোমার সঙ্গে দেখা করতে। পাছে তুমি কী ভাবো? তোমার আব্বু, আম্মু তারাই বা কী ভাবেন? তোমরা এত বড় লোক ছিলে যে তোমাদের বাড়ির দিকে তাকালে আমার চোখ ঝলসে যেত। তখন মনে মনে ভাবতাম তোমাদের মতো যদি কোনোদিন হতে পারতাম!

     – তুমি তো আমাদের চেয়ে অনেক বড় হয়ে গেছ। জানো আবির, আমিও তোমাকে মনে মনে খুঁজতাম। যখন স্কুলে যেতাম তখন মনে মনে ভাবতাম তোমাকে যদি কোথাও দেখতে পেতাম। ছোট্ট শহর কুষ্টিয়া। সেই শহরে গাড়ি দিয়ে যেতাম। সামান্য পথ, পাঁচ মিনিটেই পথ শেষ। পথ কিংবা সময় দীর্ঘ হলে হয়তো কোনোদিন পেয়েও যেতাম। নানান কাজে নিশ্চয়ই তুমি কুষ্টিয়ায় আসতে, তাই না?

     – হ্যাঁ। অনেক সময় কাজ ছাড়াও যেতাম। তোমাকে পথে পথে খোঁজতাম। কোনো দিন তোমাকে দেখিনি। বাবা মারা যাওয়ার পর তোমাদের বাড়িতে যেতে সাহস হতো না। কী উছিলায় যাবো? বছরান্তে হিসেব করেছি, তুমি এই ক্লাসে উঠেছ, আগামী বছর এই ক্লাসে উঠবে। যখন কলেজে পা রেখেছ Ñ একদিন মনে মনে ভাবলাম কলেজে তো আর বাধা নেই। তোমার সঙ্গে একবার দেখা করি। কিন্তু পরে জানলাম, তুমি মেয়েদের কলেজে পড়ো। সেখানে গিয়ে কীভাবে তোমার সাথে দেখা করি বলো?

     – তুমি আসতে পারতে। জানো, আমি ছেলে হলে ঠিকই তোমাকে খঁজে বের করতাম।

     – সবচেয়ে বড় কথা কী ছিল, জানো?

     – কী করে জানব?

     – বড় কথা ছিল তোমার সঙ্গে দেখা করে আমি কী বলব? সেরকম কোনো কথা বলার ভাষা ও উছিলা পাইনি বলেও যাওয়া হয়নি। তারপর সত্য কথাটা যদি কেউ শুনত যে, এক হতদরিদ্র পিতার এক ছেলের মনের ভেতরে তোমাকে দেখার এমন বাসনা তাহলে মানুষে কী ভাবত, বলো? তোমার আব্বা-আম্মুই বা কী ভাবতেন? অকৃতজ্ঞ মানুষের দলে আমাকে ভিড়াতেন। তাই না?

     – তা নিরেট সত্য। তোমাকে কেউ হয়তো সহ্যই করত না। তবে আমার মনে হতো তোমার ভেতরে তেজের নেভা আগুন আছে। তুমি একদিন অনেক বড় হবে। তুমি যখন বাগানে বসে ছবি আঁকতে তখন আমি তোমাকে দেখতে পেতাম তুমি বড় মানুষের দলে। এইসব উছনে যাওয়া তথাকথিত ধনী মানুষের চেয়ে তুমি অনেক ওপরের এক মানুষ।

     আবির কোনো কথা বলছে না। টেলিফোনে ভারি বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ হচ্ছে।

     আমিও কথা বলতে পারছি না। মন ও মননে এমন অসাড়তা আমি আর কোনোদিন অনুভব করিনি। দম বন্ধ হয়ে আসা এক গুমোট বদ্ধঘরে যেন আটকা পড়লাম। চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। জানালালাগোয়া বকুল গাছ থেকে টোপ টোপ করে পাতা ঝরছে। শুধু ভাবছি দিনে দিনে আমি কেমন করে তার কাছে হেরে গিয়েছিলাম। এ কি পরাজয় নাকি ঈর্ষা, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না আজ। নাকি ধনি দরিদ্রের মধ্যকার বিভেদের হিংস্রতা, নাকি আমার বাবা-মা কর্তৃক আরোপিত হতদরিদ্রদের থেকে দূরে থাকার অনুপনেয় নির্দেশ নাকি বস্তুর দ্বান্দ্বিকতা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে আবিরের কথা শুনে আমার পূঁজিবাদ আর্শীবাদপুষ্ট ঠুনকো আভিজাত্যকে এই মুহূর্তে ঘৃণা হচ্ছে। একজন মানুষের জীবনে বড় হওয়া কোনো বিষয় না যদি তার মধ্যে তেজ থাকে, আকাঙ্ক্ষা থাকে। মৌলিকতা আর তেজহীন মানুষের প্রাচূর্য্য থাকলেই কি…সে আর জড়বস্তুর মধ্যে পার্থক্য কী? 

     – হঠাৎ নীরব হয়ে গেলে কেন? কথা বলো তামান্না। নাকি বিরক্ত হচ্ছো?

     – না… না… বিরক্ত হবো কেন? এত বছরের জমানো কথা… কোনটা রেখে কোনটা বলি বলো… তাই একটু এলোমেলো লাগছে।

     – তোমার দেওয়া পেন্সিল ও রাবারটা এখনও আমি যতœ করে রেখেছি।

     – সত্যি বলছ?

     – হ্যাঁ। আমার টেবিলে সব সময় থাকে। এই তো আমার সামনেই চক চক করছে। সেদিন আমার মেয়েটা কামড়িয়ে একটু সামান্য ভেঙ্গে ফেলেছে। ও চকলেট ভেবে খেয়ে ফেলতে চেয়েছিল। 

     – এগুলি এখনও রেখেছ?

     – হ্যাঁ। এগুলিই তো আমার আশীর্বাদ। তোমার পেন্সিল দিয়েই আমি ছবি আঁকতে শুরু করেছিলাম। হঠাৎ মনে হলো এত সুন্দর পেন্সিলটা শেষ করে ফেলা ঠিক হবে না। সুন্দর জিনিস দিয়ে সুন্দর কিছু সৃষ্টি করতে হবে। তাই রেখে দিয়েছিলাম। তখন কী দিয়ে ছবি আঁকবো তাই ভেবে পাচ্ছিলাম না। একটা পেন্সিল কেনার সামর্থ্য তো আমাদের ছিল না তুমি ভালো করেই জানো। তারপর কাঠ কয়লা দিয়ে মাটিতে ছবি আঁকা শুরু করলাম। মাটির বেড়ায়, স্কুলের দেওয়ালে, কলেজের দেওয়ালে অনেক ছবি এঁকেছি। অনেক পোর্টেট। আর তোমার দেওয়া পেন্সিল ও রাবার… আমি এখনও রেখে দিয়েছি একটা সুন্দর ছবি আঁকব বলে। এত সুন্দর পেন্সিল দিয়ে কি আলতো ফালতো ছবি আঁকা যায়, বলো?

     – আমিও রেখেছি… বাবুই পাখির বাসাটি। আমার বিয়ের পর মাঝে মাঝে বদলির কারণে এখানে সেখানে গেলেও আমি বাবুই পাখির বাসাটি সঙ্গেই নিয়ে যাই। আমার বাসা সাজানোর সময় এই বাবুইর বাসাটিও থাকে। কত মানুষে যে নিয়ে যেতে চেয়েছে… এটা কি কাউকে দেওয়া যায়, বলো? এত সুন্দর জিনিস একবার হাত ছাড়া হলে জীবনে আর ফিরে পাব, বলো?

     অকস্মাৎ আবার নিরেট নীরবতা। আমার বুকের ভেতরটা এক প্রকার কান্নায় ভেসে যাচ্ছে। চোখ দুটি কেন ঝাপসা হয়ে গেল আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি বুঝতে পারছি না এখন আর কী বলব? বাবুই পাখির বাসাটি আমার ছোট ছেলেটা একটু নষ্ট করে ফেলেছে। আমি কেন তাকে বলব? সব কথা কি তাকে বলা উচিত?

     – তোমার সাথে আমার ক’বার দেখা হয়েছিল মনে আছে, তামান্না?

     – আমার মনে নেই। তবে তোমাকে নিয়ে আমাদের বাগান বাড়িতে খেলতাম, তুমি গাছে চড়ে আমাকে জলপাই পেড়ে দিতে, অর্কিড পেড়ে দিতে… তা মনে আছে। তুমি খুবই সাহসী ছিলে। তোমার সাহস দেখে আমি তাজ্জব হয়ে যেতাম।

     – তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে আট বার। আব্বার সঙ্গে যেতাম তোমাদের বাসায়। মামি আমাকে তোমার বড় ভাইয়ের পুরান শার্ট দিতেন পরার জন্য। আব্বাকে টাকা দিতেন চলার জন্য। আব্বা খুব খুশি হতো, তোমার আম্মু-আব্বুকে আশীর্বাদ করত প্রাণ ভরে।

     – এসব কথা বলো না আবির। তুমি শুধু বলো, অর্কিডের কথা, জলপাইয়ের কথা…। আর বলো বাবুই পাখির বাসাটির কথা। সেদিন তোমার জামার নিচে লুকিয়ে এই বাবুই পাখির বাসাটি আমার জন্য এনেছিলে, তাই না? তারপর এক বিকেলে তুমি আমাকে আমাদের বারান্দায় নীরবে ডেকে নিয়ে এটা দিবে কি দিবে না এমন ইতস্তত করে একসময় দিলে। আমি যে এতটা খুশি হবো তা তুমি ভাবতেই পারো নি। তারপর… খুশিতে তোমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। তাই না? তখন তুমি ফাইভে পড়তে আমি ফোরে… তাই না? 

     আবির আর কোনো কথা বলেনি। মনে হলো দীর্ঘশ্বাস আছড়ে পড়ছে সেল ফোনের সেটে। আমার বুকেও অজস্র ঢেউ আছড়ে পড়ছে। একবার ভাবছিলাম আবিরকে বলি আমার বাসায় বেড়িয়ে যেতে। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়। আমি বলতে পারলাম না। কারণ, ও ছোট সময় একদিন বলেছিল, ধনীরা গরিবদের বাড়িতে বেড়াতে যায় না। ওদের বাড়িতে কেউ বেড়াতে যায় না। ওরা শুধু অন্যদের বাড়িতে যায়। আজকে যদি আবির সে রকম কিছু ভেবে বসে তাহলে এই লজ্জা রাখব কোথায়?

     একসময় লাইন কেটে গেল। আমি শত চেষ্টা করেও আর কানেকশন পাইনি। মানুষ জীবনে সবকিছু পায় না জানি। কিন্তু আমি অনেক কিছুই পেয়ে গেছি। আবির এখনও আমার দেওয়া পেন্সিল ও রাবারটি রেখেছে একটি ভাল ছবি আঁকার প্রত্যাশায়… এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার জীবনে আর কী হতে পারে? 

     হঠাৎ মনে হলো দক্ষিণ মেরুর শব্দহীন কোনো এক অজানা গহ্বরে আমি প্রবেশ করলাম। সেখানে কতক্ষণ ছিলাম আমার জানা নেই। আমার সমস্ত বিমূঢ়তা কাটিয়ে সম্বিৎ ফিরে পেলাম, যখন অপু এসে বলল, ‘আম্মু,  তোমার চোখে পানি কেন?’

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Mirzapurpratidin এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ভিডিও বা ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Site Customized By NewsTech.Com