মো. জোবায়ের হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীতে পুলিশ কর্তৃক আটকের চেষ্টায় তুলকালাম কাÐের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, ইট পাটকেল নিক্ষেপ, স্থানীয় মসজিদ থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহবান ও ছাত্রলীগ- স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীদের লাঠিশোটা হাতে মিছিলের ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে সাবেক এমপি কালামকে আটক না করতে পারলেও ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ৩ নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া সম্প্রতি হওয়া একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিএনপির সাবেক এমপি কালামের গাড়াইল এলাকাস্থ বাসভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে সেসময় সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এস.এম. মনসুর মূসা, মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো. রেজাউল করিম, ডিবি পুলিশসহ প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলো। ঘন্টাখানেকের অধিক সময় পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুলাহ আল মামুন সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জীবন, যুব বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রিংকু চৌধুরী ও গোড়াই ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর বাসভবন ঘেরাও করে তাকে আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু অবরোধ কর্মসূচী পালনের লক্ষ্যে সেখানে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তার আটক হওয়া প্রতিরোধ করে। সেসময় বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার ঘোষণা দেয়া হয়। পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলাকালে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃত্বে লাঠিশোটা হাতে একটি মিছিল সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর বাড়ির সামনে পৌছলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তবে পুলিশের কথায় তারা এলাকা ত্যাগ করে।
বিএনপির সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আমার বাসভবনে এসে আমাকে আটকের চেষ্টা করেছে, নেক্কারজনকভাবে আমার বাসার ভিতরে দরজা ভাঙচুর করেছে, দলের কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে, আওয়ামী লীগের লোকজন আমার বাড়ির সামনে লাঠিশোটা হাতে মিছিল করেছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তাদেরকে সম্প্রতি বিস্ফোরক আইনে হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান।