বাবার ছায়া
-মোজাম্মেল হক নিয়োগী
ইদানীং বাবাকে খুব মনে পড়ে
বাবাকে প্রতিদিন প্রতিটি মুহুর্তে মনে পড়ে
যখন আমার ছোট্ট থাকার রুমটি ছেড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াই
কখনো বা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে শূন্যে ঝুলন্ত আকাশের দিকে তাকাই
কখনো টবের ফুলে হাত বুলাই
আবার কখনো বারান্দার পুব পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানি
আর শূন্যতায় হাহাকার করা নিচের সড়কের দিকে তাকিয়ে থাকি
কষ্টের নীল রঙের ঢেউ উঠে বুকের ভেতরে, গহিনে
তখন আমার বাবাকে খুব মনে পড়ে।
বাবাও জীবনের শেষ বয়সে গ্রাম থেকে এসে থাকতেন
এভাবে একটি রুমে। অনেকটা বন্দি, এখন আমরা যেমন থাকি
সকালের নাশতা, দুপুরে খাওয়া, একটু ঘুম, সারা রাত জেগে থাকা
নামাজ-প্রার্থনা, ওজিফা পড়ে সময় কাটাতেন
কখনো জানালা দিয়ে নির্লিপ্ত অসাড় দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতেন
অন্তহীন গভীর আকাশের দিকে, মুহ্যমান থাকতেন
কদাচিৎ বাইরে যেতে চাইলে বারণ করতাম অসুস্থতার অজুহাতে।
কতদিন গৃহবন্দি থাকা যায়?
মাস দু-এক হলেই বাবা অস্থির হয়ে যেতেন
চলে যেতেন গ্রামের বাড়িতে নিঃশ্বাস নিতেÑস্বস্তির নিঃশ্বাস।
তারপর আবার নিয়ে আসতাম আমাদের ছোট্ট বাসাটিতে
তারপর তিনি আবার চলে যেতেন কিছুদিন পর
একবার গেলেন… আর ফিরে এলেন না
আমাদের বারান্দায় বাবার ছায়াটি শুধু দেখি মাঝে মাঝে; বাবাকে নয়।
তিন মাস হলো গৃহবন্দি, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না
কেবলই মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসছে, এখনই বুঝি যেতে হবে
যেতে হবে অন্তহীন শূন্যতায়, অনন্তের পথে।
জীবনের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস বড় প্রয়োজন।
Leave a Reply