মো.সাজজাত হোসেন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের হাতছানি দেখা দেয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফোটেছে। ফসলের মাঠগুলোতে এখন সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে বিরাজ করছে থোকা থোকা হলুদ ফুলের দৃষ্টিনন্দন মনোমুৃগ্ধকর দৃশ্য।
সরিষা ফুল আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ প্রকৃতি প্রেমীদের। গোটা গ্রাম সরিষার হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে। মৌচাষিরা মধু আহরনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
আবহাওয়া অনুকুল থাকায় চলতি মৌসুমে মির্জাপুরে লাভজনক ও ব্যপক উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় লাভ জনক হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষের দিকে ঝুকছে। আবহাওয়া সামনের দিনগুলোতে অনুকুলে থাকলে আশানুরুপ ফলনে ব্যাপক লাভবান হবেন এখানকার সরিষা চাষিরা।
যেদিকে দৃষ্টি যায় শুধু সবুজের ফাঁকে হলুদের সমাহার। রাস্তার ধারে কিংবা ফসলের মাঠে সবুজের মাঝে চোখ ধাঁধানো হলুদ ফুল আর ফুল। ফুলের বিন্তীর্ণ মাঠে দূরন্ত শিশুরা মেতে উঠছে নানা রকমের খেলাধূলায়। উপজেলার বিভিন্ন সরিষার মাঠগুলোতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার পুষ্টকামুরী গ্রামের চাষি মো.সুজন মিয়া, মোঃ সজিব মিয়া জানান, উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের মূল্য বাজারে কম থাকায় ধান আবাদে প্রতি বছরই চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই লোকসানের ঘাটতি মেটাতে বিকল্প ফসল হিসেবে তারা সরিষা চাষে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, এবার আমরা মির্জাপুরে যে লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছিলাম তা থেকে আরো বেশি পরিমান জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষার রোগ দমনে মাঠে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। চলতি বছরে ৮ হাজার ৫শত হেক্টর জমি সরিষা চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১.২৫ মেট্রিক টন।
Leave a Reply