মীর আনোয়ার হোসেন টুুটুল
প্রভাবশালী মহলের হাত থেকে বাঁচতে ভিটেমাটি রক্ষা, পুলিশী হয়রানী বন্ধ ও ন্যায় বিচারের দাবীতে এলাকার নিরীহ অসহায় ভুক্তভোগি পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ অফিসে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন ইউনিয়ন আওযামীলীগের সভাপতি মো. আজাহারুল ইসলাম এবং ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আদর আলী ও কদভানু বেগম।
অসহায় পরিবারের সদস্যগন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নয়াপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও তার পুত্র সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী আদম ব্যবসায়ী শাহআলম সিকদার গংরা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার নিরীহ লোকজনের জমি জবর দখল করে আসছে। তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলেই এই চক্রটি মিথ্যা মামলা দিয়ে নানা ভাবে হয়রানী করে আসছেন। গত কোরবানী ঈদের সময় গরু কোরবানীকে কেন্দ্র করে প্রবাসে থেকে ব্যবসায়ী শাহআলম বিভিন্ন ফেসবুক আইডি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়। নানা ভাবে অপপ্রচার করায় মুসুল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে এবং সমাজ বিভক্ত হয়ে পরে। এই ঘটনায় নয়াপাড়া সমাজের নিরীহ ১৪ জনকে আসামী করে গত ২ আগস্ট মির্জাপুর থানায় সাধারন ডায়রী করেন প্রবাসি শাহ আলমের পিতা নাজিম উদ্দিন। এই সাধারন ডায়রীতে হত্যা ও প্রাণ নাশের হুমকির কথা উল্লেখ করে উপজেলা আওযামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির আহবায়ক এবং বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মঞ্জুর কাদের বাবুল, বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আজাহারুল ইসলাম আজাহার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লুৎফর রহমান কলিনসহ নয়াপাড়া গ্রামের ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দেওয়া হয় যার কোন সত্যতা ও ভিত্তি নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এর আগেও এই চক্রটি প্রভাব বিস্তার করে এলাকার শতাধিক নারী পুরুষের নামে ডাকাতি মামলা দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ, মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগ প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানী বন্ধ এবং নাজিম ও শাহআলম গংদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আজাহারুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মো. মোকলেছুর রহমান, বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিল্টন, বাঁশতৈল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লুৎফর রহমান কলিন, সাধারন সম্পাদক সাগর আহমেদ লাবলু, ছাত্রনেতা আবিদ সিকদার, বাঁশতৈল মো. মনশুর আরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. এমরান হোসেন, বাংলাদেশ স্কাউটস মির্জাপুর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও গায়রাবেতিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন, ইউপি মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন ও ভুক্তভোগি পরিবারের মধ্যে মজিবর রহমান, আদর আলী, কদভানুসহ কয়েক শতাধিক নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাকাওয়াত হোসেন বলেন, নাজিম উদ্দিন সিকদার মির্জাপুর থানায় অভিযোগ করেছেন। সে অভিযোগের তদন্ত করছেন এসআই মো. আরিফ হোসেন। বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতেও অভিযোগ করেছেন। দুটি অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন নিরীহ পরিবার যাতে হয়রানীর শিকার না হয় এলাকায় খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply