মো. জোবায়ের হোসেন
২০১৪ সালে সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গতমাসে হঠাৎ করেই ঘোষণা আসে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের। খুব অল্প সময়ের দুরত্বে গত পহেলা মার্চ সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আকস্মিকভাবেই পিছিয়ে যায় সেই সম্মেলনের তারিখ। সম্মেলনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয় আগামী ৩১ মার্চ।
কিন্তু সম্মেলনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে তেমন কোন সাড়া শব্দ নেই নেতাকর্মীদের মাঝে। প্রার্থীতা ঘোষণা করে সরব হতেও দেখা যাচ্ছেনা কাউকে। ব্যানার ফেস্টুন কিংবা মিছিল বা শোডাউনতো পরের বিষয়। ফলে অনেকটা উৎসববিহীন ভাবে সম্মেলনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ। তবে সম্মেলন ঘিরে প্রার্থীতা ঘোষণা করে প্রচার প্রচারণায় দেখা না মিললেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে হাতেগুনা দু’চারজন প্রার্থী রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে এই সম্মেলনে আগামী নেতৃত্ব ভোট নাকি সিলেকশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তা নিয়েও বিচ্ছিন্ন আলোচনা হচ্ছে। অপরদিকে সম্মেলন ঘিরে সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর কমিটি অনুমোদন থেকে শুরু করে কাউন্সিলর নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতারও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল বলেন, একদিকে সঠিক উপায়ে কাউন্সিলর অনুমোদন হচ্ছেনা অপরদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্র কিংবা জেলার সাথে লবিংয়ের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসার চেষ্টা করছেন। এসব কারণে সম্মেলন ঘিরে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে কোন উৎসাহ বা আমেজ নেই।
উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রউফ বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণ হয়েছে এখন উপজেলায় কি হবে সে বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। তবে দল যেন সুসংগঠিত থাকে তা ভোট বা সিলেকশন যেভাবেই হোক।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে কমিটি করার নির্দেশনা দিবেন সেভাবেই হবে তবে তৃণমুল নেতাকর্মীদের মতামত বা ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব ঠিক হলে তা আওয়ামীলীগের জন্য উত্তম হবে। কাউন্সিলর অনুমোদন নিয়ে বির্তকের বিষয়ে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক মতো হয়েছে তবে কিছু বিতর্কতো থাকবেই।
সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু সম্মেলন প্রস্তুতি ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে বলে দাবি করে ৩১ মার্চের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উৎসবমুখর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ৩১ মার্চের এই সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. দীপু মণি এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপিসহ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।