মোঃ সাজজাত হোসেন
নারী শিক্ষা সংস্কৃতি, ক্রীড়া, নারী উন্নয়ন এবং সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব পদক পেলেন কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি.) লি. এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ জয়াপতি (মরণোত্তর)।
আজ রোবরার সকাল দশটায় (৮ আগস্ট) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ পদক তার পরিবারের সদ্যদের হাতে তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব’ পদক চালু করেছে সরকার। এ বছরই প্রথম স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন এবং রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫ জন বিশিষ্ট নারীকে এ পদক দেওয়া হলো।
দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ছিলেন কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭১ সালে তাঁকে ও তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ধরে নিয়ে যায় রাজাকাররা। আজ পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ মেলেনি। বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর ছোট মেয়ে জয়াপতি কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার হাল ধরেন। তাঁর নেতৃত্বে সংস্থার সেবামূলক কাজে গতি সঞ্চার হয়। বিশেষ করে কুমুদিনী হাসপাতাল ও দেশের নারী শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসে নতুন জীবন ফিরে আসে।
ভারতেশ^রী হোমসের সিনিয়র শিক্ষিকা কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতানা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবাকে হারিয়ে এক সংকটকালে জয়াপতি কুমুদিনী হাল ধরেন। তাঁর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে পুরো কুমুদিনী পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। জয়া পতির জন্ম ১৯৩২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতায়। পিতার নাম শহীদ দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা রায় বাহাদুর (আরপি সাহার), মাতার নাম কিরন বালা সাহা। স্বামীর নাম ডা. বিষ্ণুপদ পতি।
ভারতের কালিংপং সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে প্রাথমিক, এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে লন্ডন থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত নারী জাগরণ ও নারী শিক্ষার অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ, ১৯৭১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান, ১৯৭১-১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি.) লি. এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে কুমুদিনী নার্সিং স্কুল, ১৯৭৬ সালে কুমুদিনী হ্যান্ডিক্রাফট, ১৯৮২ সালে কুমুদিনী গার্মেন্টস, ১৯৮৪ সালে কুমুদিনী ট্রেড এন্ড ট্রেনিং স্কুল এবং ১৯৯১ সালে কুমুদিনী ফার্মা প্রতিষ্ঠান করেন মিসস জয়াপতি। জয়াপতি দায়িত্বে থাকাকালে ১৯৮২ সালে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থা স্বাধীনতা পুরস্কার পায়। ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর জয়াপতি মারা যান। তিনি মির্জাপুরে ‘ছোট দি’ নামে পরিচিত ছিলেন।
জয়া পতি ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষক, দক্ষ প্রশাসক, পরিচালক, সফল নারী উত্তোক্তা এবং সমাজ সেবক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার ভুমিকা ছিল অসাধারন।
কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি.) লি. ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজিব প্রসাদ সাহা ও পরিচালক শ্রীমতি সাহা জানিয়েছেন, আমাদের জেঠামনি আরপি সাহাকে হারানো ও ৭১ এর পর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত কুমুদিনী পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন আমাদের জয়াপতি। তার অক্লান্ত শ্রমের ফলেই আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো আজও সমাজ সেবায় অগ্রণী ভুমিকা রেখে চলেছে। সরকার বঙ্গমাতা পদক দিয়ে যে সম্মান দেখালেন আমরা কুমুদিনী পরিবার বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কাছে চির ঋনী।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান বলেন, জয়াপতির এই পদকপ্রাপ্তির খবর শুনে আমরা আনন্দিত।
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me.
Thanks for sharing. I read many of your blog posts, cool, your blog is very good.
Thanks for sharing. I read many of your blog posts, cool, your blog is very good.