মোঃ সাজজাত হোসেন
৮ মার্চ সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঁচজন জয়িতাকে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ দেয়া হয়। এদের মধ্যে মির্জাপুরের বীরাঙ্গনা রবিজান একজন।
জানা গেছে, বাঁশতৈল ইউনিয়নে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী রবিজান বেওয়ার গ্রামে ঢুকে কয়েকজনের বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ওইদিনই পাক বাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে রবিজানসহ আরও কয়েকজন নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। অস্ত্রের ভয় আর পাশবিক নির্যাতনে জ্ঞান হারান তিনি।
ধর্ষিতা হওয়ার অপরাধে স্বামীর সংসার ছাড়তে হয় তাকে। সরকারি জমিতে ঘর তুলে বসবাস করতে থাকেন তিনি। বয়স হওয়ায় এখন স্মৃতিশক্তিও কমে গেছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দেয়া হয়নি রবিজানকে। পাননি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা বা সরকারি কোনো সযোগ-সুবিধাও। উল্টো পেয়েছেন মানুষের লাঞ্ছনা ও অপবাদ।
রবিজানকে নিয়ে বিভিন্ন পএিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারীর নজরে আসে। তিনি টাঙ্গাইলের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাহাবুব হোসেনকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ যাচাই বাছাই শেষে ২০১৯ সালের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬২তম সভায় ৯ জুলাই রবিজান বেওয়াসহ সারাদেশে ৪৬ জন বীরাঙ্গনার নাম প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যা ২৯ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
রবিজান বলেন, সাংবাদিকরা আমাকে নিয়ে লেখার কারণে দীর্ঘদিন পর হলেও বীরাঙ্গনা খেতাব, সম্মানী ভাতা ও সরকারি জমি পেয়েছি। আজ শেখ হাসিনা আমাকে পুরস্কার দিলেন। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মির্জাপুরের সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জোবায়ের হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গেজেট প্রকাশের দিন থেকে তার নামে ভাতা চালু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সরকারি ৮ শতাংশ ভূমি লিখে ও দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে তাকে ঘর দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
Leave a Reply