আবেদীন জনী’র কবিতা
তাই তিনি আমাদের জাতির জনক
শৈশবে সবাই তাঁকে আদর করে খোকা নামে ডাকত
বাইগার নদীটির জীবন পাতায় লেখা আছে সেই নাম
মধুমতি নদীটির বুকের খাতায় লেখা আছে সেই নাম
শৈশবে যাঁর বন্ধু ছিল টুঙ্গিপাড়ার সবুজ মাঠ, গিমাডাঙা ইশকুল, দুষ্টু ছেলের দল
সব ঘাসফুল, ফড়িংয়ের ঝাঁক, কাশবন, বৃক্ষ-পত্রপল্লব-পাখি এবং অন্ধকারের
দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেদ করে উড়ে চলা অজস্র আগুনপোকা
সেই যে দুরন্ত খোকা, সেই খোকাটিই মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান
তিনি ভালোবাসতেন নদীর জলের শব্দ, মাঝিদের ভাটিয়ালি গান, কৃষকের হাসি
তিনি ভালোবাসতেন নজরুলের- রবীন্দ্রনাথের কবিতার পঙক্তিমালা, সুরের মূর্ছনা
বাংলাকে ভালোবেসে ছুটে চলতেন বিহঙ্গ-ডানায়, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
বাংলাকে ভালোবেসে পেয়েছেন তিনি বঙ্গবন্ধু নাম
বাংলাকে ভালোবেসে হয়েছেন তিনি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন
আর বিশ্বনেতাদের চোখে মুজিবুর মানে হিমালয়, মুজিবুর মানে রাজনীতির কবি
জন্মেছেন তিনি সবুজে শ্যামলে, বদ্বীপের কোলে
তবে তাঁর দেশ শুধু এই দেশ নয়
তিনি সকল দেশের সব মানুষের, বিশ্বময় তাঁর হিমাদ্রিসমান দীর্ঘাঙ্গের ছায়া
মৃত্যু কি ছুঁতে পারে সব মানুষের প্রাণ?
কিছু প্রাণ প্রদীপ্ত সূর্যের মতো ঝলমল করে জ্বলে পৃথিবীর আকাশে আকাশে
মৃত্যুতেও মরে না যেজন, মুজিবুর সেই অমর অক্ষয় চির জ্যোতির্ময় নাম
পঁচাত্তরে সেইসব নির্দয় নির্বোধ জালিমের দল ভাবতেই পারেনি, তাঁকে হত্যা করা হলে
আরও প্রদীপ্ত হয়ে প্রবল প্রতাপে জেগে উঠেবেন তিনি
বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে ছুটে চলবেন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত-
ভাবতেই পারেনি ওরা, পৃথিবীর দেশে দেশে, শহরে নগরে, দিগন্ত থেকে দিগন্তে
তাঁর নামে একদিন শুরু হবে হাজার রঙে বর্ণিল লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষের পদচারণায়
প্রাণোচ্ছল শোভাযাত্রা, জমকালো উৎসব
তাঁর হৃদয়ের বিশালতা ছিল আকাশের মতো
তাঁর হৃদয়ের গভীরতা ছিল সমুদ্রের মতো
তাই তাঁর কণ্ঠে নিসংকোচে অপার মায়ায় উচ্চারিত হলো-
‘পিতৃপরিচয়হীন সকল যুদ্ধশিশুর পিতার নাম লিখে দাও- শেখ মুজিবুর রহমান’
এমন হৃদয় যাঁর, তাঁর নামে হৃদয়ের ফুল দিয়ে সাজাই প্রত্যহ অপার শ্রদ্ধার মালা
‘এখনো শকুন উড়ে বাংলার আকাশে বাতাসে’
এখনো রক্তলোলুপ লাল চোখে এখানে-ওখানে হাঁটাচলা করে পাকিপ্রেতাত্মার দল
এখনো এজীদ কিংবা ইবলিশের মতো দুচোখ কপালে তুলে
চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে টেবিল চাপড়ে কথা বলে পাকিস্তানের দালাল
যখন আমরা দীপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করি মুজিবের প্রিয় সেই স্লোগান- জয়বাংলা
তখন পাপিষ্ঠ হায়েনার বংশধর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে লেজ গুটিয়ে পালাতে থাকে দিগ্বিদিক
তারপর চেয়ে দেখি, বাগানে বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে নির্ভয়ে পাপড়ি মেলছে অজস্র গোলাপ
বাতাসে ঝাপটিয়ে ডানা উড়ছে শালিকের জুটি, প্রশান্তির কইতর
শেখ মুজিবুর দিয়েছেন মুক্তির পতাকা
শেখ মুজিবুর জন্ম দিয়েছেন মুক্ত স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র ‘বাংলাদেশ’
বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন বাঙালির সমুজ্জ্বল পরিচয়
তাই তিনি স্বাধীনতার মহানায়ক
তাই তিনি আমাদের জাতির জনক।
Leave a Reply