মো. জোবায়ের হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
আহসান হাবিব উজির। উজির নামেই এলাকায় পরিচিত তিনি। ৪০তম বিসিএস পরিক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম যোগ দিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। বর্তমানে রয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে। কিন্তু বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েও বিসিএস পরিক্ষায় অংশ নেওয়া বাদ দেননি আহসান হাবিব উজির। ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরিক্ষায় অংশ নিয়েও প্রিলি ও লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এনিয়ে টানা ৭ বিসিএসে অংশ নিয়ে ৪ বার প্রিলি ও লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। ৩ বার প্রিলিতে উত্তীর্ণ হলেও স্বেচ্ছায় অংশ নেননি লিখিত পরিক্ষায়। এরমধ্যে ৪০ ও ৪২তম বিসিএস পরিক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি।
বিসিএস পরিক্ষা বশে আনা এই আহসান হাবিব উজিরের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। পৈত্রিক নিবাস উপজেলার আটিয়া মামুদপুর গ্রামে হলেও বড় হয়েছেন মির্জাপুর পৌরসভার বাইমহাটী এলাকায়। বাদশা মিয়া ও হেলেনা আক্তার দম্পতির দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে তিনি ছোট। এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করেছেন পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে সম্পন্ন করেন এমবিবিএস। আহসান হাবিব উজিরের স্ত্রী জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
গেল বছরের ০৫ মার্চ চলন্ত ট্রেনে হার্ট অ্যাটাক করা এক যাত্রীকে চিকিৎসা দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ট্রেন অনির্ধারিত যাত্রা বিরতি দিয়ে নিজ মায়ের সহযোগিতায় ওই যাত্রীকে হাসপাতালেও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয় তার ওই মানবিক কাজের সংবাদ। ট্রেনে কোন প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকা নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। দাবি করেছিলেন ট্রেনে ফার্ষ্ট এইড বক্স ও ট্রেন স্টেশনে চিকিৎসা সেবা রাখার।
আহসান হাবিব উজির বলেন, স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও প্রথম দিকে আমার জেনারেল ক্যাডার হওয়ার ইচ্ছে ছিলো। এজন্য বার বার বিসিএস পরিক্ষায় অংশ নিয়েছি। তবে পরে মনে হয়েছে না স্বাস্থ্য ক্যাডারেই থেকে যাই।