মোঃ সাজজাত হোসেন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের বিরুদ্ধে করোনাকালীন সময়ে শিশু খাদ্য না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মির্জাপুর উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মির্জাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ে জিআর কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন সময় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় শিশু খাদ্য বাবদ ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে শিশু খাদ্যর জন্য মির্জাপুর পৌরসভায় ৩৭ হাজার, মহেড়া ৪০ হাজার, জামুর্কী ৪৪ হাজার ৫০০, ফতেপুর ৩৩ হাজার ৭৫০, বানাইল ৩৮ হাজার, আনাইতারা ৩৭ হাজার, উয়ার্শী ৪১ হাজার ৫০০, ভাতগ্রাম ৩৬ হাজার, বহুরিয়া ৩৫ হাজার ৫০০, গোড়াই ৭৯ হাজার, আজগানা ৪৬ হাজার, তরফপুর ৩৪ হাজার, বাঁশতৈল ৪২ হাজার, লতিফপুর ৪২ হাজার ৫০০ ও ভাওড়া ইউনিয়নে ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা চেকের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও চেয়ারম্যানগনদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বিভিন্ন সময় শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। মির্জাপুর পৌরসভায় এখন পর্যন্ত শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন ও জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল বলেন, শিশু খাদ্যের জন্য বিভিন্ন ধাপে টাকা পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যেকটি মেম্বারদের সাথে পরামর্শ করে তালিকা তৈরি করে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, করোনাকালীন সময়ে শিশু খাদ্যের টাকা চেকের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এই খাদ্য বিতরণের সময় উপজেলা থেকে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ও পৌরসভায় ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ শিশু খাদ্য বিতরণ করেন এবং মির্জাপুর পৌরসভা এখন পর্যন্ত বিতরণ করেনি বলে জানতে পারি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে আমিরুল কাদের লাবন ও ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আজম খান বলেন, করোনাকালীন সময় শিশু খাদ্যের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে অদ্যবধি তা বিতরণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র চন্দনা দে বলেন, আমার বিরুদ্ধে টাকা আৎসাতের অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। শিশু খাদ্যের জন্য কাউন্সিলরদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শিশু খাদ্য বিতরণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মালেক বলেন, আমরা বরাদ্দের টাকা পৌরসভাকে বুঝিয়ে দিয়েছি। কি কারনে পৌরসভা এখন পর্যন্ত শিশু খাদ্য বিতরণ করেনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে। পৌরসভায় শিশু খাদ্য বিতরণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
Leave a Reply