স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তিন পরিবারের ১৭জন কোভিডমুক্ত হয়েছেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, প্রাক্তন ফুটবলার খন্দকার মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও নকলনবিশ মিজানুর রহমানসহ তাদের পরিবারে পাঁচ বৃদ্ধ, তিন কিশোরী ও পাঁচ শিশু কোভিড এ আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের পরামর্শে বাড়িতেই চিকিৎসা নিয়ে এবং কিছু নিয়ম মেনে সুস্থ হন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, সাবেক ফুটবলার মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ মিজানুর রহমানসহ তাদের পরিবারের ১৭জন সদস্যের কোভিড শনাক্ত হয়। তাঁরা সকলেই বাড়িতে থেকে ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে সুস্থ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে কোভিড এ আক্রান্ত হলেই আতঙ্কিত না হয়ে এবং ঠান্ডা মাথায় সচেতনতার সঙ্গে রোগটি মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন ওই তিন পরিবারের সদস্যরা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাবেক কৃতি ফুটবলার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার মোফাজ্জল হোসেন দুলাল (৮৫) বছর বয়সে করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। এছাড়া তাঁর স্ত্রী সৈয়দা রাশেদা দুলাল (৭০), পুত্রবধু তাহমিনা আক্তার (৪৫), জমজ দুই নাতনি রুপিতা খন্দকার সোহা ও রুপিরা খন্দকার রুহি (১৫) করোনা জয় করেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম এই তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মীর এনায়েত হোসেন মন্টু (৬৬), তাঁর বড় ভাই টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মীর দৌলত হোসেন বিদ্যুৎ (৭১), পুত্রবধু শাকিলা আফরোজ (৩৮), নাতি মীর রিয়াদ (১২), মীর আরাফ (১২), মীর পুষ্পিতা (১৫), নয় মাসের শিশু মীর রাথ ও মির্জাপুর বাজারের বাসিন্দা
সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ মিজানুর রহমান (৩৭), স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৮), শিশুপুত্র আলভি (১০), শিশুকন্যা রুহি (৬) ও তাঁর মা মনোয়ারা বেগম (৭০) কোভিডমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। আক্রান্তের পর দুটি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসায় স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের সুস্থ্য ঘোষনা করেন। মির্জাপুর উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৫ জনের মৃত্যু ও ১২৫ জন সুস্থ্য হয়েছেন। এছাড়া ১৬০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ও নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। খন্দকার মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, মনোবল শক্ত করে বাসায় অবস্থানকালে চিকিৎসকের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী চলেছি এবং কিছু ঘরোয়া টিপস অনুস্বরণ করেছি। আল্লাহর রহমতে বৃদ্ধ বয়সে করোনা জয় করেছি।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, ৪০ বছর যাবত জনপ্রতিনিধিত্ব করছি। মানুষের সাথেই চলাফেরা। এজন্য নিজেকে ঘরে আটকাতে পারিনি। কোনো উপসর্গ না থাকলেও নমুনা দিয়েছিলাম। চার নাতি-নাতনিসহ বড় ভাই ও পুত্রবধুর পজিটিভ আসলেও বাড়িতেই চিকিৎসা নিয়েছি। সকলের ভালোবাসায় আল্লাহর রহমতে সবাই সুস্থ্য হয়েছি। তবে সবাইকে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।
Leave a Reply