তুষার সান্যাল
মির্জাপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বংশাই-লৌহজং নদীর আশপাশে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব এলাকার পানিবন্দী প্রায় কয়েক হাজার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তলিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী দেওহাটা গরুর হাট। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বংশাই ও লৌহজং নদীর পানির চাপ বেড়ে গিয়ে পৌরসভার পুষ্টকামুরী, ত্রিমোহন, গাড়াইল, কুমারজানি এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। মির্জাপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিরুল কাদের লাবন বলেন তার ওয়ার্ডে পুষ্টকামুরী দক্ষিণ পাড়ার আনু মিয়ার ঘর ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, আরো বেশ কিছু বাড়িঘর ঝুঁকির মধ্যে আছে। লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.জাকির হোসেন বলেন, ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও ফসলি জমি ডুবে গেছে। এছাড়াও বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, বৈন্যাতলী, চাকলেশের, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। একই অবস্থা লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় আঞ্চলিক রাস্তা ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, বন্যায় নদী ভাঙন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হবে।
Leave a Reply