মো. জোবায়ের হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রবাস ফেরত আরজুকে দুইটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি খালি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড তাজা গুলি ও একাধিক দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ। গত শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাত ২ টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে আরজুকে গ্রেপ্তার করে মির্জাপুর থানা পুলিশের একটি দল। বর্তমানে তিনি ৩ দিনের পুলিশি রিমাণ্ডে আছেন।
আরজুর বাড়ি উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া উত্তরপাড়া গ্রামে। তিনি মৃত মজিবর রহমান মধুর ছেলে। এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৭ তারিখ সৌদি আরব থেকে ৩ মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি।
এদিকে প্রবাস ফেরত আরজুর বাড়ি থেকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিদেশী পিস্তল উদ্ধারের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকা আরজুর কাছে এতো অস্ত্র কোথা থেকে এলো ? নাকি আরজু ষড়যন্ত্রের শিকার!
আরজুর ভাগিনা সাখাওয়াত হোসেন জানান, তার মামা ১৯৯৬ সালে প্রথম সৌদি আরব যান । এরপর দেশে এসে ১৯৯৮ সালে যান কোরিয়া। কোরিয়া থেকে ২০১১ সালে দেশে এসে ২০১২ সালে বিয়ে করেন। ২০১৫ সালে পুনরায় সৌদি আরব যান তিনি। সেখান থেকে ৩ মাসের ছুটি নিয়ে ২০১৯ সালে দেশে আসেন তিনি। ছুটি শেষে আবার চলে যান সৌদি আরব। সর্বশেষ এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩ মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। ২৯ এপ্রিল ছুটি শেষে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিলো তার।
মির্জাপুর থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বর্তন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে জমি সংক্রান্তে মারামারির ঘটনায় মামলার আসামি হয়েছিলেন আরজু। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।
সরজমিন গ্রেপ্তারকৃত আরজুর বাড়ি গিয়ে তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বললে তারা সবাই আরজুর ঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পুলিশি অভিযান নিয়মমাফিক ও স্বচ্ছ ছিলো বলে জানান।
আরজুর মা হালিমা বেগম (৯৫) বলেন, আমার বড় ছেলে পুলিশ ছিলো। আরজু অনেক আগে থেকে বিদেশ করে। ও এই অস্ত্র দিয়া কি করবো ?
স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলামনা। আমার স্বামী এরকম না। তার বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করেছে। তবে কারা ষড়যন্ত্র করে থাকতে পারে সে বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি তিনি।
প্রতিবেশী লেবু মিয়া বলেন, আরজুতো বিদেশেই থাকে বহু বছর। তার কাছে এতো অস্ত্র পাওয়া রহস্যজনক।
সহকারি পুলিশ সুপার ( মির্জাপুর সার্কেল) এস এম মনসুর মুসা বলেন, যেহেতু গ্রেপ্তারকৃত একজন প্রবাসী তাই বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ক্ষতিয়ে দেখছি। আদালত তার ৩ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।