নিজস্ব প্রতিবেদক, মির্জাপুর | ১৮ মার্চ,২০২৬,
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর অপহৃত যুবদল নেতা ইউসুফ খানের (৩২) মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই কুড়াতলী গ্রামের একটি ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিহত ইউসুফ খান আজগানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরিবারের দাবি, গত শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে নিজের মাটির ব্যবসার সাইট তদারকি করতে গিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় তার বোন পান্না আক্তার মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরেই তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশি তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে ঘাগরাই কুড়াতলী গ্রামের রিজনের ছেলে আলমগীর এবং সৌদিপ্রবাসী হানিফকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে এবং মরদেহের অবস্থান নিশ্চিত করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলমাসের ইটভাটার বিশাল মাটির স্তূপ খুঁড়ে ইউসুফের নিথর দেহ বের করে আনে পুলিশ।
অনুসন্ধানে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব—সবই জড়িয়ে আছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, গত শনিবার ইউসুফের একটি মাটির ট্রাকের ধাক্কায় প্রবাসী হানিফের একটি গাছের ডাল ভেঙে যায়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী এক গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সেদিন সামান্য গাছ ভাঙা নিয়ে হানিফ আর ইউসুফের মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটি হয়। আমরা ভাবিনি এটা খুনের পর্যায়ে যাবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই এলাকায় মাটির ব্যবসা ও ট্রাক চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি অদৃশ্য স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। স্থানীয়দের ধারণা, গাছ ভাঙার ঘটনাটি ছিল কেবল একটি উছিলা, মূলত মাটি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্বজনদের আর্তনাদ বোন পান্না আক্তারের আহাজারি,আমার ভাই তো কারো ক্ষতি করেনি। শুধু নিজের রুটিরুজির জন্য কাজ করতে গিয়েছিল। যারা আমার ভাইকে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। পুলিশ কেন আগে পদক্ষেপ নিল না?
ভাতিজা নীরব খান,চাচা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা আশঙ্কায় ছিলাম। কারণ ওই এলাকায় কিছু মানুষ তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কিন্তু এমন নৃশংসভাবে তাকে মেরে ফেলা হবে, তা কল্পনাও করতে পারছি না।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ,
আজগানা ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের দাবি, আটককৃতদের পেছনে প্রভাবশালী কোনো চক্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান,আমরা নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করি। আটককৃতদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিশ্চিত হতে আমাদের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।