স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপিসহ ৮ জন এমপি হতে চান। এরই মধ্যে তারা নিজেদের সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মী সঙ্গে নিয়ে দিন রাত সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, এ আসনের টানা চারবারের এমপি প্রয়াত একাব্বর হোসেনের ছেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মধুমতি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রাফিউর রহমান ইউসুফজাই সানি, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব) ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ লিটন ও সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল এবং আওয়ামী সমর্থিত ডা. শাহিনুর রহমান শাওন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দুইবারের সভাপতি ও মির্জাপুর আসনের টানা চারবারের এমপি মো. একাব্বর হোসেন ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।
উপ—নির্বাচনে এমপি হতে প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেনের স্ত্রী ঝর্ণা হোসেন ও ছেলে ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত ছাড়াও বর্তমান সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাফিউর রহমান খান ইউসুফজাই সানি, মেজর (অব.) ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সহ সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল ও তৌফিকুর রহমান তালুকদার রাজিব, এবং মির্জাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জ্বল দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। খান আহমেদ শুভ দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও সকল দলের অংশ গ্রহণে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেজন্য এ আসনের সকল প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে হিসেব নিকেশ চলছে। এ উপজেলায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫২ ভোটার রয়েছে। জানা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৪৫ হাজার এবং কারিগর সম্প্রদায়ে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটার রয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জানান সীমান্ত সদরের পুষ্টকামুরী গ্রামের সন্তান। বিএনপির সহিংস রাজনীতি মোকাবেলায় সীমান্তসহ পূর্বের ন্যায় তার গ্রামের লোকজনই অগ্রণী ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে রাখবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এছাড়া টানা চারবার এমপি থাকাবস্থায় প্রয়াত একাব্বর হোসেন মির্জাপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এজন্য একাব্বর হোসেনের ছেলে হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে সীমান্তর। তাছাড়া ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত সভা সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান নেতাকর্মীরা।
দলীয় নেতারা জানান, আওয়ামী লীগের ৮ জন দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তারা তাদের সমর্থক নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া না হলে ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে।
নেতাকর্মীরা জানান, উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী এবং সদরের পার্শ্ববর্তী ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রাম রয়েছে। সদর সহ উপজেলার সর্বত্র গ্রাম দুটির প্রভাব রয়েছে। পুষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন টানা চারবারের এমপি প্রয়াত একাব্বর হোসেন। তিনি দুই যুগের বেশি সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে গোড়াইল গ্রামের প্রভাবও রয়েছে বেশ শক্ত। গোড়াইল গ্রামের বাসিন্দা ১৫ ফেব্রম্নয়ারির নির্বাচনসহ দুুইবারের সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। তার বাড়ি গোড়াইল গ্রামে হলেও বসবাস করেন পৌর এলাকার গাড়াইল গ্রামে। এজন্য শহর কেন্দ্রীক দুই দলের রাজনীতি বেশ শক্ত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী অথবা পুষ্টকামুরী গ্রামের সন্তান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ—সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদ সোহরাব পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ আসনে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে চারবার পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন একাব্বর হোসেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সদর কেন্দ্রীক জনবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে না দেয়া হলে পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে। শুধু পরাজয় নয়, ভবিষ্যতে সদরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন নেতাকর্মীরা।
মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী ৫২ বছরে মির্জাপুরে তেমন উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার ১৫ বছরে প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেনের প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। এ আসনে সব দিক বিবেচনায় প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেনের ছেলে এগিয়ে রয়েছেন। তাকে দল মনোনীত করলে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি ধরে রাখা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন।
ভাওড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, আমাদের বাড়ি এ ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে। আমাদের গ্রামের পরে ধামরাই উপজেলা। এ গ্রাম থেকে ১৫ বছর আগেও যোগাযোগের যে অবস্থা ছিল তাতে মির্জাপুর উপজেলা সদরে যাওয়ার চিন্তা করলে ৫/৭ দিন আগে দিন তারিখ ঠিক করতে হতো। রাস্তা ছিল না। কয়েকটি খেয়া পার হতে হতো। আর এখন ইচ্ছে করলেই যে অবস্থায় আছি সে অবস্থায় মাত্র ১০ মিনিটে মির্জাপুর যেতে পারি। এ উপজেলার মানুষ সারা জীবন প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেনের কথা মনে রাখবে বলে বিশ্বাস করি। তাই এ আসনটি ধরে রাখতে তার ছেলে ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্তর বিকল্প নেই।
আজগানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, আমরা পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করি। এ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে লাল মাটি রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘর থেকে বের হওয়া কষ্টকর ছিল। আগে রাস্তা থাকলেও পাকা ছিল না। পাকা রাস্তা না থাকায় যানবাহন আসতো না। এজন্য আমাদের জমিতে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে নায্য মূল্য পেতাম না। প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেন পাহাড়ি এলাকার রাস্তা পাকা করে দিয়েছেন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি ফসল বিক্রি করেও নায্য মূল্য পাচ্ছি। আগে মাসে একবার শহরে যাওয়ার সাহস করতাম আমরা পাহাড়বাসি। এখন মন চাইলেই যেতে পারি। তার এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনে মির্জাপুর আসনটি খুবই গুরুত্ব বহন করে। এজন্য আগামী নির্বাচনে প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেনের ছেলে ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্তকে দলীয় মনোনয়ন দিলে জয়ী হওয়া সম্ভব হবে।