সাদিকুল ইসলাম:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের নামকরা নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০’ এর জন্য ৯ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের শিক্ষা ক্যাটাগরিতে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছে ভারতেশ্বরী হোমস।
১৯৩৮ সালে মাত্র ১৪ জন ছাত্রী নিয়ে নারী বিদ্যানিকেতনের যাত্রা শুরু করেন দানবীর হিসেবে খ্যাত রণদা প্রসাদ সাহা। পরে লৌহজং নদীর তীরে ১৯৪০ সালে বর্তমান স্থানে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেন তার ঠাকুর মার মা ভারতেশ্বরী দেবীর নামানুসারে। সম্পূর্ণ আবাসিক এই নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে হলো শিক্ষার্থীদের সর্বক্ষেত্রে আতœনির্ভশীল করে গড়ে তোলা। ১৯৬২ সাল এই প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি খোলা হয়। স্বাধীনতার পরপরই উত্তপ্ত রাজনীতি ও উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে ১৯৭৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানে আবার উচ্চমাধ্যমিক শাখা খোলা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ছাত্রী ও ৮ জন পুরুষসহ ৬৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্য কার্যক্রম দেশজুড়ে এমনকি দেশের বাইরেও সুপরিচিত।
কালের পরিক্রমায় ৮২ বছর পর ২০২০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হলো। এতে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে বইছে খুশির বন্যা।
ভারতেশ্বরী হোমসের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অমলেন্দু সাহা বলেন, এই প্রাপ্তির আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বলতে পারি, কাজ করলে একদিন স্বীকৃতি মেলে- এই পুরস্কার সেটাই প্রমাণ করে।
সাবেক অধ্যক্ষ একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি বলেন, যে কোন পুরস্কার প্রপ্তি আনন্দের। এই পুরস্কার প্রাপ্তির ফলে ভারতেশ্বরী হোমসের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।
টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সাংসদ একাব্বর হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারী শিক্ষায় ভারতেশ্বরী হোমস যে অবদান রেখেছে তাতে দেশ অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। সেজন্য এই প্রতিষ্ঠানের পুরস্কারপ্রাপ্তি যথার্থ বলে তিনি মনে করেন। মনোনয়ন বোর্ড্রের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply