মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল:
খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর মজুত চাল ও টিসিবির বিপুল পরিমান পন্যসহ আওয়ামীলীগ নেতা ডিলার মো. আবুল বাশার (৬৫) র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারের পর র্যাবের ভ্রাম্মমান আদালত তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ডিলারশিপ বাতিল করে জামানত বাজেয়াপ্ত করেছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা বাজারের গুদাম ঘরে অভিযান চালিয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর চাল ও টিসিবির বিপুল পরিমান মজুত পন্য উদ্ধার এবং মুল হোতা ডিলার আওয়ামীলীগ নেতা আবুল বাশারকে গ্রেফতার করা হয়। বাবুল বাশারের পিতার নাম-মৃত রেজু দেওয়ান, গ্রামের বাড়ি জামুর্কি ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া-গোড়ান গ্রামে।
আজ রবিবার টাঙ্গাইল র্যাব-১২ ও সিপিসি-৩ এর এরিয়া কমান্ডার মেজর আবু নাইম জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নে মেসার্স আবুল বাশার ট্রেডার্স খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর চাল ও টিসিবির পন্য উঠিয়ে কর্মহীন, দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে নায্য মুল্যে বিতরন না করে অতি মুনাফা লাভের জন্য পাকুল্যা বাজারে গুদামে মজুত করে রেখেছেন। গতকাল রাতে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গুদামে গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর চাল ও টিসিবির পন্য উদ্ধার করা হয়। এ সময় ডিলার আবুল বাশারকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতারের পর র্যাব বাদী হয়ে ডিলার আবুল বাশারকে আসামী করে নিয়মিত মামলার পর মির্জাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযানের সময় মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক, সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. যুবায়ের হোসেন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন, আবুল বাশারের নামে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচী, টিসিবি, সার ও কীটনাশকসহ ৫ টি ডিলারশিপ রয়েছে। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর চাল, টিসিবির পন্য, সার ও কীটনাশ উঠিয়ে জনগনের মাঝে ঠিকমত বিতরন না করে প্রতারনার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ডিলার আবুল বাশার গ্রেফতারের পর তার ডিলারশিপ বাতিল করে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার (ওসি) তদন্ত মো. গিাস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডিলার আবুল বাশারকে আসামী করে র্যাবের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামী ডিলার আবুল বাশারকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply