মো. জাহাঙ্গীর হোসেন:
পরিবারের সাথে ঈদ কাটাতে পছন্দমত কেনাকাটা করছিলেন আশারাফুল। পরিবারের সদস্যরাও পছন্দের পোশাক, প্রসাধনী কেনার কথা জানাতে জানিয়েছিলেন ফোনে। এরই মধ্যে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মির্জাপুরের আশরাফুলের। গত ১৮ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। এতে পরিবারের সাথে ঈদ করার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল তার। আশরাফুলের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ভাদগ্রাম ইউনিয়নের ঘুগী গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
আশরাফুলের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৯ বছর ধরে তার ভাই সৌদি আরবের মদিনা শরীফে আল হামরা প্লাাস্টিক ফ্যাক্টরীতে কাজ করতেন। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন তিনি। রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ২০ মে ছুটিতে দেশে আসার কথা ছিল। বাড়ি আসবে বলে সকলের চাহিদা মতো কেনাকাটাও করেছিলেন বলে জানান তিনি। আমরা সবাই অপেক্ষা করেছিলাম ভাইয়ের জন্য। কিন্তু গত ১১ এপ্রিল আশরাফুলসহ কোম্পানীর ৫ শ্রমিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ৫ জনের মধ্যে ৪ জন সুস্থ্য হলেও ১৮ এপ্রিল আশরাফুলের মৃত্যু হয়। বুধবার (২২ এপ্রিল) কোম্পানীর ফোরম্যান মো. সুমন মিয়া টেলিফোনে তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বলে জানান রফিকুল। এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবে আশরাফুলের মৃত্যুর খবর পৌঁছলে পরিবারসহ গ্রামটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আশরাফুলের লাশ দেশে পাঠানো সম্ভব নয়। সৌদি আরবে সরকারি নিয়মে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে বলে তার সহকর্মীরা ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন।
আশরাফুলের কলেজ পড়–য়া কন্যা মেঘলা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, এমন মৃত্যু হলো মারা যাওয়ার পর বাবার মরা মুখওটি দেখার ভাগ্য হলো না।
Leave a Reply