মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কদিম দেওহাটা গ্রামে নিখোঁজের ৭ দিন পর হাফিজা আক্তার (৭) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে ওয়ার্শী ইউনিয়নের বরুটিয়া গ্রামের মো. সোহেল মিয়ার মেয়ে। পরিবারসহ সে কদিম দেওহাটা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে প্রথমে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্বজনদের। মাইকিংয়ের পর কিছু অসাধু ব্যক্তি সোহেল মিয়াকে ফোন করে টাকা দাবি করে। পুলিশ মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে একই ইউনিয়নের বাইমাইল দক্ষিণ পাড়ার মোঃ সাজিদ (১৮) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মিললেও টাকা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি ঘর থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় দড়ি প্যাঁচানো দাগ রয়েছে এবং লাশটি লালকমল দিয়ে মোড়ানো ছিল। স্থানীয়রা জানান, মেয়েটির বাবা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাতেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর কবিরুল ইসলাম জানান, শিশুটির বাবা সোহেল মিয়া গত ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে তিনি মেয়েকে ফিরে পেতে পুরস্কার ঘোষণা করলে তিনটি নম্বর থেকে ফোন করে প্রথমে ১০ হাজার, পরে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে টাকার লোভে ফোন করার কথা স্বীকার করলেও অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছিল। লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।