মোঃ রায়হান সরকার রবিন:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের আয়োজনে বসন্ত বরণ উৎসবে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল। আজ শনিবার এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কুমুদিনী ক্যাম্পাস জুড়ে উৎসবের আমেজের সৃষ্টি হয়।

ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে কুমুদিনী হাসপাতাল প্রাঙ্গন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও ভারতেশ্বরী হোমসের আঙিনা নানা সাজে সজ্জিত হয়। এই উৎসবে যোগ দিয়ে সকালে ঢাকা থেকে রাষ্ট্রদূতগণ একে একে কুমুদিনী চত্বরে আসতে থাকেন। কুমুদিনী লাইব্রেরীর সামনে রাষ্ট্রদূতদের স্বাগত জানান কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা। কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ এম এ হালিম ও কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ প্রদীপ কুমার রায়। পরে বসন্ত উৎসব উপলক্ষে কুমুদিনী ক্যাম্পাসে নানা রঙের ব্যানার ও ফেস্টুন সহকাওে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। এতে রাষ্ট্রদূতগণ অংশ নেন।

রাষ্ট্রদূতগণের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্ণ ডিকসন ও তার স্ত্রী তেরেসা আলবর, জাপানের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইটো নাওকি ও সেকেন্ড সেক্রেটারি ইবিহারা কেনজি, সুইডেনের চারলুট্টা স্লেটার, ব্রাজিলের জুয়াও তাবাজারা ডি অলিভেরা জুনিয়র, মালদ্বীপের আইসাত সানা সাকির, ভ্যাটিকান সিটির আর্চ বিশপ জর্জ কোচেরী ও নেপালের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ড. বানশিধর মিশ্র।
বেলা ১১ টার দিকে কুমুদিনী কমপ্লেক্সেও আনন্দ নিকেতনে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহাকে নিয়ে নির্মিত ভিডিও চিত্র দেখেন অতিথিরা। এরপর কুমুদিনী উউমেন্স মেডিকেল কলেজ, কুমুদিনী হাসপাতাল, নার্সিং স্কুল ও কলেজ ঘুরে দেখেন। দুপুর ১২ টার দিকে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আনন্দ র্যালী বের করেন। এতে অতিথিরা অংশ নেন। র্যালিটি কুমুদিনী ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে ভারতেশ্বরী হোমসের মাঠে শেষ হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা নেচে গেয়ে বসন্ত বরণ করেন। পরে তারা রণদার নিজ বাড়ি মির্জাপুর গ্রামে গিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন। সন্ধ্যায় মেডিকেল কলেজের সতীশ বণিক হলে শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অতিথিরা তা উপভোগ করেন। মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিম হাসমত রিচি বলেন, অনুষ্ঠান আমাদেও সকলকে খুবই আনন্দ দিয়েছে। এ জন্য শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের সবাই প্রশংসার দাবি রাখেন। আর বিদেশী অতিথিরা আমাদের আনন্দ আরও বাড়িয়েছেন।
অধ্যক্ষ এম এ হালিম বলেন, এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা বলেন, বসন্তের আয়োজনের অতিথিদের পেয়ে সবাই অভিভূত। লেখাপড়ার চাপের ভিড়ে সবার মনেই বিনোদন প্রয়োজন। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজেদের জড়িত রেখে সে কাজটিই করছেন।
Leave a Reply