মো. জোবায়ের হোসেন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিলে মাছ চাষের জন্য জমি ভাড়া দেয়া- না দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮জন আহত হয়েছেন। যার মধ্যে নজরুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন নামের দুইজনের অবস্থা গুরুতর।
বৃহস্পতিবার (১২ই আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মির্জাপুর পৌরসভার বাইমহাটী এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর মাছ চাষকারী দেওয়ান আল মামুনের বাবা আরফান দেওয়ান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এতে ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ। অপরপক্ষ অর্থাৎ মাছ চাষের জন্য জমি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি প্রদানকারীরাও থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তবে শুক্রবার (১৩ই আগস্ট) বিকেল ৪টা নাগাদ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত তাদের মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন ছিল বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিলে মাছ চাষের জন্য দেওয়ান আল মামুনদের দেয়া জালের বেড়া উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন জমি দিতে অস্বীকৃতি প্রদানকারী বেশকয়েকজন এলাকাবাসী। সেসময় দেওয়ান আল মামুন ও তার সঙ্গীরা তাদেরকে বাধা প্রদান করেন ও একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন। তাদের হামলায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম (৪৫) ও বিল্লাল হোসেন গুরতর আহত হন। আহত হন দেওয়ান আল মামুনও। এছাড়া উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন লগু মাত্রায় আহত হন।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, বাইমহাটী বিলে থাকা ব্যক্তি মালিকাধীন কৃষি জমি ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন মির্জাপুর পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আল মামুন ও তার অনুসারিরা। কিন্তু গতবছর থেকে অনেকেই মাছ চাষের জন্য বিলের জমি ভাড়া না দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেন জমির বেশকিছু মালিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি আপোষ মিমাংসা করে দেন। মিমাংসায় বলা হয় যেহেতু দেওয়ান আল মামুন বিলে মাছের পোনা ছেড়েছেন তাই সেবারের মতো তাকে মাছ চাষ করতে বাধা না দিতে বলা হয় এবং পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে সমঝোতার ভিত্তিতে মাছ চাষ করা না গেলে যারা জমি দিতে অস্বীকৃতি জানাবে তাদের জমি বাদ রেখে মাছ চাষ করার জন্য বলা হয়। কিন্তু এবছরও মাছ চাষের জন্য জমি দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন গ্রামবাসী। গ্রামবাসী বিলটিকে সাধারণের মৎস শিকারের জন্য উন্মক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অপরদিকে নতুন মেয়াদ শেষে নতুন চুক্তিতে বেশ কয়েকজন তাদের জায়গা দেওয়ান আল মামুনের কাছে ভাড়া দেন। এমতাবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন কয়েকজন জমির মালিক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্তকালে আপোষের চেষ্টা করেও ব্যর্থ কৃষি কর্মকর্তা। এনিয়ে এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। পরে এ সমস্যার সমাধানের লক্ষে মির্জাপুর থানা পুলিশকে দায়িত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু এই মতবিরোধের মধ্যেও মাছ চাষ অব্যাহত রাখে দেওয়ান আল মামুন। ফলে বিরোধ চরমে পৌছলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে দেওয়ান আল মামুন দাবি করেন পূর্বের চুক্তির মেয়াদ শেষে নতুন করে তিনি বিলে মাছ চাষ করার জন্য জমির মালিকদের সাথে ১০ বছরের চুক্তি করেছেন। তবে সানোয়ার নামের এক জমির মালিক তার জায়গা ভাড়া দেননি। আমরা তার জায়গা বাদ রেখে মাছ চাষ করছিলাম।
বিলে থাকা জমির মালিক সানোয়ার দাবি করেন, গ্রামের দেড় শতাধিক মানুষের মধ্যে ১০-১২ জন মামুনের কাছে জায়গা ভাড়া দিলেও বাকি অধিকাংশরাই জমি দেননি। কৃষি আবাদ অব্যাহত রাখা ও সীমানা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে মাছ চাষ না করার জন্য তাকে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আইনি নোটিশ উপেক্ষা করে জোরপূর্বক মাছ চাষের চেষ্টা করে মামুন ও তার সঙ্গীরা।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিজাউল হক জানান, উক্ত ঘটনায় এক পক্ষের মামলা হয়েছে। অপরপক্ষও অভিযোগ দিয়েছে। মামলায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me. http://yuan-chain-coin-precio.cryptostarthome.com
Thank you for your sharing. I am worried that I lack creative ideas. It is your article that makes me full of hope. Thank you. But, I have a question, can you help me?