ভ্রমণ ও ভালোবাসার দ্বৈরথ
তুমি ভালোবাসো- আমি করি ভ্রমণ তোমাতে
তুমি শান্ত সমুদ্র- আমি স্রোতধারা বহমান জলরাশি
তুমি আলপথ- আমি দিগ্ভ্রান্ত পথিকের অস্থির আঙুল
প্রেমিককে বড় বেশি ভ্রমণপিপাসু হতে হয়
থামা ও চলার কৌশলে হতে হয় সুযোগ্য মুসাফির
তৃষ্ণার্ত হতে হয়
পেরোতে হয় পাহাড় পর্বত বন জঙ্গল কাদামাটি
নরম ঘাস জ্যোৎস্নাতীত শ্মশান রাজবাড়ি
উপভোগ করতে হয় মাছিদের মধুরতম জীবন
তুমি তো জানো
ভ্রমণ ও ভালোবাসায় কোনো বিরোধ নেই আজও
প্রেমিককে ভালোবাসা সে তো ভ্রমণ ছাড়া
আর কিছু নয়; ভ্রমণমাত্রই সুখের সংগমসরণি
সৃষ্টির দ্বৈরথ নিবিড় প্রেম প্রক্ষালয়
দ্বিধাহীন একই পথ পুনরায় মাড়াবার সুখী পুরাণ
থামো, চুপ যাও- সম্প্রসারিত হও,
আমাকে ভ্রমণ করতে দাও সমগ্র স্বদেশ
ভালোবাসা সে তো ভ্রমণের জন্মদাগ হয়ে
মিশে আছে আমাদের অনাগত সোনার সংসারে…
অন্তর্গত দূরত্ব
একদিন তোমার আঙুল ছুঁলেই বিদ্যুতায়িত হতাম
শক খেয়ে ছিটকে পড়তাম অনুভূতির গরম পেয়ালায়
আমার সারা শরীরজুড়ে তাই ফোস্কা ফোস্কা দাগ
তোমার হাতে হাত রাখলেই ছুঁতাম আকাশের ছাদ
চোখে চোখ রাখলেই ডুবতাম সমুদ্রের নীল জলে
চুলের রাজ্যে খুঁজে পেতাম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল
বুকের দুই পাশে পাহাড়িকা প্রলয়
মাঝখান দিযে বয়ে গেছে সোঁদা গাঙ
সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুব দিয়ে ভেজাই ভালোবাসার নাও
একদিন তোমাকে দেবী ভেবে সাজাতাম পুজোর বেদি
প্রেমিকা ধরে কষে নিতাম সুদকষার অঙ্ক
রাতের ঘুম হারাম করে সারারাত তোমায় ভেবে
শিখে নিতাম শিরিরের ম্লান-কৌশল
চাঁদের সাথে পাল্লা দিয়ে রাত্রির প্রার্থনায় গুঁজে দিতাম
অবিনাশী সুখের আর্তনাদ
তোমাকে কাছে পেলে হাতের মুঠোয় মুষ্টিবদ্ধ পৃথিবী
স্বর্গ ও নরকের মিলনপর্ব-সূত্রস্থ স্মারকে জন্মচিহ্ন
আমরা খুব কাছের ছিলাম- স্নেহের করতলে মানুষ…
অথচ যেদিন তুমি সত্যিকার প্রেমিকা হয়ে কাছে এলে
সেদিন থেকে আমি দেবতা হয়ে দূরে গেলাম।
Leave a Reply