অরাত্রিকা আমার প্রেমিকা
আবেদীন জনী
সরল স্বভাবী সবুজ মনের মেয়ে- অরাত্রিকা
আমাকে সে অরণ্য বলে ডাকে
কোন খেয়ালে, কী বা কারণে অরণ্য শব্দটি
তার কাছে এতবেশি প্রিয় হয়ে উঠল- মাথামুন্ডু কিছুই বুঝি না
কিন্তু সে যখন অরণ্য বলে ডাকতে থাকে,
কী এক গভীর ভালোলাগা সমস্ত আমাকে আচ্ছন্ন করে
আমি অন্য এক মায়াবী ঘোরের মধ্যে ডুবে যেতে থাকি
একদিন তাকে প্রশ্ন করলাম, আমি তো আকাশ;
কিন্তু তুমি আমাকে অরণ্য বলে ডাকো কেন?
কোনো রকম ভূমিকা ছাড়াই মুখের ওপর উলটো প্রশ্ন ছুড়ে দিল-
তুমি আকাশ হলে তোমাকে ছোঁবো কেমন করে?
আমি খুব কাছ থেকে চাই সুনিবিড় আরণ্যক ছায়া
নির্মোহ, উদার বৃক্ষের সবুজ ভালোবাসা
সেই অরাত্রিকা গতকাল মুঠোফোনে আমাকে বলেছে- আমি খুব ভয় পাচ্ছি অরণ্য;
চোখের সামনে কিছু মানুষের মুখ হঠাৎ কেমন বদলে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে হিংস্র জন্তুর মুখ
চোয়ালের বিষদাঁত আর ঝুলে পড়া জিভ চকমক করছে মাংসের লোভে
আর ওইসব জন্তুদের খাদ্যে পরিণত হচ্ছে অসংখ্য নারী
বিশেষ করে আমার বয়সি মেয়েগুলো
কেউ কেউ ভয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে পালাবার কোনো পথ না পেয়ে
শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিচ্ছে গাঢ় হিম অন্ধকারে
এই তো সেদিন, কবিতার পরাবাস্তব চিত্রকল্পের মতো
আমার দুচোখে ভেসে উঠল আরো কয়েকটি দৃশ্য:
দয়াবান বৃক্ষগুলো শিকড়সহ উপড়ে মুখে পুরে নিচ্ছে নরকের দৈত্য
যৌবনবতী নদীর শরীর এক চুমুকেই করে দিচ্ছে কঙ্কালসার
একদিকে করোনার তান্ডব, নগ্ন নৃত্য
অন্যদিকে মৃত্যু ফেরি করে বেড়াচ্ছে দুপেয়ে হায়েনা
আমি আর পারছি না, অরণ্য
এই সঙ্গরুদ্ধ অসহ্য সময় আর কতদিন, বলতে পারো?
তোমাকে ছুঁতে পারছি না বলে কী রকম বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছি আমি!
কী জবাব দেবো আমি অরাত্রিকাকে?
হৃদয়ের পাড়ভাঙা কষ্টের আগ্রাসী ঢেউ বুকে চেপে, তবুও বলেছি- সাহস রেখো অরা,
চোখ বুজে দেখো, আমি তোমার পাশেই আছি
এখন আমার কিছুই ভালো লাগে না
উদভ্রান্তের মতো যাচ্ছে আমার দিন
তুমুল ঝড়ের বিপরীতে ধাবমান নৌকোর মাঝির মতো
প্রবল অস্থিরতায় ওঠানামা করছে বুকের পাঁজর
যেকোনো সময় কান্ডজ্ঞানহীন কিছু করেও ফেলতে পারি
শোনো, বিরুদ্ধ বাতাস
অরাত্রিকা আমার প্রেমিকা
তার কিছু হলে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড়ব না আমি।
Leave a Reply